গলা ব্যথা এমন একটি সমস্যা, যেটিকে অনেকেই খুব সাধারণ বলে ধরে নেন। কিন্তু বাস্তবে গলা ব্যথার
কারণ সব সময় এক
নয়। কারও এটি ঠান্ডা-কাশির অংশ, কারও টনসিলের প্রদাহ, কারও এলার্জি, আবার কারও ক্ষেত্রে এসিডিটি বা
কণ্ঠের অতিরিক্ত
ব্যবহারের ফল। তাই শুধু গলা ব্যথা আছে শুনে সবার চিকিৎসা এক হবে, এমন ভাবা ঠিক নয়।
অনেক সময় ২–৩ দিনের বিশ্রাম, গড়গড়া/গার্গল আর পর্যাপ্ত পানি খেলেই আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু যদি
গিলতে কষ্ট হয়,
জ্বর বেশি থাকে, কণ্ঠ ভেঙে যায়, বা কয়েক দিন পরেও ব্যথা না কমে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা
দরকার। কারণ কিছু
ক্ষেত্রে গলা ব্যথা শুধু সাময়িক অস্বস্তি নয়; এটি টনসিল, কণ্ঠনালি, বা গলার ভেতরের অন্য সমস্যারও
ইঙ্গিত হতে পারে।
তাই কখন ঘরে যত্ন নিলেই হবে, আর কখন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, তা জানা
জরুরি। এই লেখায়
আমরা তুলে ধরেছি গলা ব্যথা কী, কেন হয়, কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে, ঘরে করণীয় কী, চিকিৎসা কীভাবে
হয়, এবং কখন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া
উচিত।
গলা ব্যথা বলতে সাধারণভাবে গলার ভেতরে ব্যথা, জ্বালা বা অস্বস্তি,
বা গিলতে কষ্ট
হওয়াকে বোঝায়। এটি নিজে আলাদা কোনো রোগ নয়। বরং এটি একটি উপসর্গ, যার পেছনে নানা কারণ থাকতে
পারে।
গলার ভেতরের বিভিন্ন অংশে সমস্যা হলে গলা ব্যথা হতে পারে। যেমন টনসিল, গলার পেছনের অংশ, কণ্ঠনালি,
নাকের পেছনের পথ, বা খাদ্যনালির কাছাকাছি অংশ। তাই গলা ব্যথার চিকিৎসা করার আগে কারণ বোঝা জরুরি।
গলা ব্যথার সাধারণ লক্ষণ
গলা ব্যথা সবার ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। কারও হালকা খসখসে ভাব থাকে। কারও আবার ঢোক গিললেই তীব্র
ব্যথা হয়। সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে—
গলার ভেতরে ব্যথা বা জ্বালা
ঢোক গিলতে ব্যথা
গলা শুকিয়ে যাওয়া
গলা খসখসে লাগা
কথা বললে গলায় চাপ লাগা
কণ্ঠ বসে যাওয়া
কাশি বা খুসখুসে কাশি
জ্বর বা শরীর ব্যথা
নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকা
টনসিল লাল বা ফুলে যাওয়া
মুখে দুর্গন্ধ
গলার পাশে গ্রন্থি ফুলে যাওয়া
কানের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে যাওয়া
নোটঃ সব লক্ষণ একসঙ্গে থাকবে, এমন নয়। তবে গলা ব্যথার সঙ্গে জ্বর, গিলতে কষ্ট, শ্বাসকষ্ট,
কণ্ঠের দীর্ঘদিনের পরিবর্তন বা গলায় ফোলা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
গলা ব্যথা কেন হয়: সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ সমূহ
গলা ব্যথা সাধারণত ভাইরাল ইনফেকশন, টনসিলের প্রদাহ, এলার্জি, এসিড রিফ্লাক্স, ধূমপান, অতিরিক্ত কণ্ঠ
ব্যবহার বা
ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণে হতে পারে। এছাড়াও গলা ব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। নিচে
সবচেয়ে সাধারণ
কারণগুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
ভাইরাল সংক্রমণ
গলা ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ভাইরাল সংক্রমণ। সর্দি, ফ্লু, ঋতু পরিবর্তনের ভাইরাল সংক্রমণ, বা
শ্বাসতন্ত্রের
হালকা সংক্রমণে গলা ব্যথা শুরু হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত নাক দিয়ে পানি পড়া, হালকা
জ্বর,
কাশি, শরীর ব্যথা
বা দুর্বলতাও থাকতে পারে।
ভাইরাল কারণে হওয়া গলা ব্যথা অনেক সময় কয়েক দিনের মধ্যে নিজে নিজেই কমে যায়। তবে বিশ্রাম, পানি
এবং
সঠিক যত্ন না নিলে
অস্বস্তি বাড়তে পারে।
ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ
কিছু গলা ব্যথা ব্যাকটেরিয়ার কারণেও হয়। এতে ব্যথা বেশি হতে পারে। জ্বর থাকতে পারে। টনসিল লাল,
ফুলে যাওয়া বা সাদা দাগ দেখা যেতে পারে।
এমন হলে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক নয়। কারণ সব গলা ব্যথায় অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না।
ডাক্তার রোগীর অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেন।
টনসিলের প্রদাহ
টনসিল ফুলে গেলে গলা ব্যথা খুব বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ঢোক গিলতে কষ্ট হয়। অনেক সময় জ্বর, মুখে
দুর্গন্ধ, কানে ব্যথা, গলার পাশে গ্রন্থি ফোলা বা খাবার খেতে অনীহা দেখা যায়।
শিশু ও তরুণদের মধ্যে টনসিলের সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে বড়দের ক্ষেত্রেও বারবার টনসিলের প্রদাহ
হতে পারে।
এলার্জি ও নাকের পেছন দিয়ে শ্লেষ্মা নামা
নাকের এলার্জি থাকলে অনেক সময় নাকের পেছন দিক দিয়ে শ্লেষ্মা গলার দিকে নামে। এতে গলায় খুসখুসে
ভাব, জ্বালা, বারবার গলা পরিষ্কার করার ইচ্ছা এবং হালকা ব্যথা হতে পারে।
অনেকেই এটিকে শুধু ঠান্ডা ভেবে ভুল করেন। কিন্তু এলার্জির কারণে হলে নাকের সমস্যাও গুরুত্ব দিয়ে
দেখা দরকার।
এসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা
পেটের এসিড গলার দিকে উঠে এলে গলা জ্বালা, গলা ব্যথা, কণ্ঠ ভারী হওয়া, বারবার গলা পরিষ্কার করার
ইচ্ছা বা সকালে গলা খারাপ লাগার সমস্যা হতে পারে।
যাদের বুকজ্বালা, ঢেকুর, টক পানি ওঠা, রাতে শোয়ার পর অস্বস্তি, বা ভোরবেলা গলা খারাপ থাকে, তাদের
ক্ষেত্রে এসিড রিফ্লাক্স একটি সম্ভাব্য কারণ।
অতিরিক্ত কথা বলা বা কণ্ঠের ওপর চাপ
শিক্ষক, বক্তা, গায়ক, কল সেন্টারে কাজ করেন এমন মানুষ, বা যারা দিনের বড় অংশ কথা বলে কাটান, তাদের
মধ্যে গলার পেশি ও
কণ্ঠনালিতে চাপ পড়ে। এতে গলা ব্যথা, গলা শুকিয়ে যাওয়া, কণ্ঠ বসে যাওয়া, বা কথা বলতে অস্বস্তি
হতে
পারে।
ধুলাবালি, ধোঁয়া ও দূষণ
আমাদের চারপাশের পরিবেশও বড় কারণ। ধুলা, ধোঁয়া, ধূমপান, রাসায়নিক গন্ধ, বা ঠান্ডা-গরমের হঠাৎ
পরিবর্তনে গলা সংবেদনশীল
হয়ে যায়। এতে সরাসরি সংক্রমণ না থাকলেও গলা জ্বালা ও ব্যথা হতে পারে।
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া
নাক বন্ধ থাকলে অনেকে মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। এতে গলা শুকিয়ে যায়। বিশেষ করে রাতে এমন হলে সকালে ঘুম
থেকে উঠে গলা ব্যথা,
শুষ্কতা, বা ভারী লাগার সমস্যা হয়।
ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হয় কেন?
ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো গলার প্রদাহ বা সংক্রমণ। সর্দি-কাশি বা
ফ্লুর মতো ভাইরাল
সংক্রমণে
গলা জ্বালা ও ব্যথা হয়, আর গিললে তা বেশি টের পাওয়া যায়। টনসিলের প্রদাহ বা ব্যাকটেরিয়াল
সংক্রমণ থাকলেও
গিলতে ব্যথা
বাড়তে পারে।
এ ছাড়া এলার্জি, নাকের পেছন দিয়ে শ্লেষ্মা নামা, এসিডিটি বা এসিড রিফ্লাক্স, এবং
কখনও
গলার শুষ্কতা বা বেশি কথা বলার
কারণে গলার চাপ
থেকেও এমন হতে পারে। ব্যথাযুক্ত গিলতে কষ্টকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আলাদা উপসর্গ হিসেবে ধরা
হয়, এবং এর
কারণ সাধারণ সর্দি থেকে শুরু করে রিফ্লাক্স পর্যন্ত হতে পারে।
নোটঃ যদি গিলতে খুব কষ্ট হয়, জ্বর বেশি থাকে, টনসিল ফুলে
যায়, কণ্ঠ বসে
যায়, শ্বাসে কষ্ট হয়, বা ৫–৭ দিনের বেশি থাকে,
তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত।
গলা ব্যথার কারণ ডাক্তার কীভাবে নির্ণয় করেন?
ডাক্তার প্রথমে রোগীর উপসর্গ সম্পর্কে জানতে চান। এরপর গলা, টনসিল, নাক, কান ও ঘাড়ের গ্রন্থি
পরীক্ষা করা হয়। টনসিল ফুলেছে কি না, গলায় লালভাব আছে কি না, পুঁজ বা সাদা দাগ আছে কি না, এসব
দেখা হয়। যেমন—
কত দিন ধরে গলা ব্যথা
জ্বর আছে কি না
কাশি বা সর্দি আছে কি না
গিলতে কষ্ট হচ্ছে কি না
কণ্ঠ বসে গেছে কি না
টনসিল বারবার ফুলে কি না
এসিডিটি বা বুকজ্বালা আছে কি না
ধূমপান বা ধুলাবালির সংস্পর্শ আছে কি না
আগে এমন সমস্যা হয়েছে কি না
প্রয়োজনে ডাক্তার কিছু পরীক্ষা দিতে পারেন। যেমন থ্রোট সোয়াব, রক্ত পরীক্ষা, এলার্জি মূল্যায়ন, বা
কণ্ঠনালির পরীক্ষা। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষা লাগে না। অনেক সময় উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা
থেকেই প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।
গলা ব্যথার চিকিৎসা কী?
গলা ব্যথার চিকিৎসা সব সময় কারণের ওপর নির্ভর করে। সবার জন্য এক চিকিৎসা নয়। একজনের ক্ষেত্রে বিশ্রাম
ও পানি যথেষ্ট হতে পারে, অন্যজনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে ওষুধ, পরীক্ষা, বা বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন।
১. ভাইরাল গলা ব্যথার চিকিৎসা
ভাইরাল কারণে হলে সাধারণত বিশ্রাম, পানি পান, কুসুম গরম পানিতে গার্গল, গলা আরাম রাখা এবং প্রয়োজন
হলে উপসর্গ কমানোর ওষুধ দেওয়া হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে উন্নতি হয়।
২. ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসা
ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ সন্দেহ হলে ডাক্তার রোগীর অবস্থা দেখে ওষুধ দেন। অ্যান্টিবায়োটিক লাগবে কি
না, সেটি ডাক্তার সিদ্ধান্ত নেন। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা নিরাপদ নয়।
৩. টনসিলের চিকিৎসা
টনসিল কতটা ফুলেছে, জ্বর আছে কি না, বারবার হচ্ছে কি না, এসব দেখে চিকিৎসা ঠিক করা হয়। কারও
ক্ষেত্রে
শুধু ওষুধে ঠিক
হয়। কারও ক্ষেত্রে ঘন ঘন সমস্যা হলে আরও মূল্যায়নের দরকার হয়।
৪. এলার্জিজনিত গলা ব্যথার চিকিৎসা
এলার্জি থাকলে শুধু গলার ব্যথা কমানোর ওষুধে স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে। নাকের এলার্জি, শ্লেষ্মা
নামা, ধুলাবালি, ঠান্ডা পরিবেশ—এসব নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
৫. এসিড রিফ্লাক্সের চিকিৎসা
এসিড রিফ্লাক্সের কারণে গলা ব্যথা হলে খাবারের নিয়ম, ঘুমের অভ্যাস, রাতের খাবারের সময়,
ঝাল-তেলযুক্ত খাবার, চা-কফি, ওজন, এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ—সবকিছু বিবেচনা করা হয়।
৬. কণ্ঠের চাপজনিত গলা ব্যথা
যাদের বেশি কথা বলতে হয়, তাদের কণ্ঠ বিশ্রাম, সঠিকভাবে কথা বলা, পানি পান, ধোঁয়া এড়ানো এবং
প্রয়োজনে কণ্ঠনালির মূল্যায়ন দরকার হতে পারে। কণ্ঠ দীর্ঘদিন বসে থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়।
গলা ব্যথা হলে করণীয় কি?
গলা ব্যথা বারবার হলে শুধু ঘরোয়া পদ্ধতিতে আটকে থাকা ঠিক নয়। কারণ বারবার ফিরে আসা গলা ব্যথার
পেছনে টনসিল, এলার্জি, রিফ্লাক্স, কণ্ঠনালি বা নাকের সমস্যা থাকতে পারে। হালকা গলা ব্যথা হলে কিছু
সাধারণ যত্নে আরাম পাওয়া যায়। অনেক সময় এগুলোই যথেষ্ট হয়। যেমন—
বেশি পানি পান করুন
কুসুম গরম পানিতে গার্গল করুন
গলাকে বিশ্রাম দিন
খুব ঠান্ডা খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত ঝাল খাবার কম খান
ধুলা, ধোঁয়া ও ধূমপান থেকে দূরে থাকুন
নরম খাবার খান
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
এসিডিটি থাকলে রাতের খাবার দেরিতে খাবেন না
নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না
নোটঃ গলা ব্যথা হলেই নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা ঠিক নয়। এতে সব সময় উপকার হয় না।
বরং অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া হয়।
সব গলা ব্যথা বিপজ্জনক নয়। তবে কিছু লক্ষণ থাকলে দেরি না করে ডাক্তার দেখানো জরুরি। গলা ব্যথা যদি হালকা হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে কমে আসে, তবে সাধারণ যত্নে অনেক সময় ভালো হয়ে যায়। কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে ইএনটি বিশেষজ্ঞ-এর কাছে যাওয়া উচিত। যেমন—
গলা ব্যথা ৫ থেকে ৭ দিনের বেশি থাকে
গিলতে খুব কষ্ট হয়
শ্বাস নিতে অস্বস্তি হয়
খুব বেশি জ্বর থাকে
কণ্ঠ দীর্ঘদিন বসে থাকে
গলায় গুটি বা ফোলা অনুভব হয়
এক পাশের গলা বেশি ব্যথা করে
মুখ খুলতে কষ্ট হয়
খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট হয়
বারবার একই সমস্যা ফিরে আসে
সঙ্গে অকারণে ওজন কমে
কানের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে যায়
বাংলাদেশে গলা ব্যথার জন্য কোন ডাক্তার দেখাবেন?
গলা ব্যথা যদি কয়েক দিনের মধ্যে না কমে, বারবার ফিরে আসে, গিলতে কষ্ট হয়, কণ্ঠ বসে যায়, বা
টনসিলের
সমস্যা ঘন ঘন দেখা
দেয়, তাহলে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ দেখানো ভালো। কারণ একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞ গলা, টনসিল,
কণ্ঠনালি, নাকের
পেছনের অংশ এবং
গিলতে সমস্যার মতো সম্পর্কিত বিষয় একসঙ্গে মূল্যায়ন করতে পারেন।
ঢাকায় প্রফেসর ডাঃ কামরুল হাসান তরফদার একজন অভিজ্ঞ নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ, যিনি গলা, কণ্ঠ,
টনসিল এবং
মাথা-ঘাড়ের
বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসায় ৪০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রাখেন। তাই দীর্ঘদিনের বা বারবার হওয়া গলা
ব্যথার
সঠিক কারণ জানতে
তাঁর মতো অভিজ্ঞ ইএনটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উপকারী হতে পারে।
গলার সমস্যার অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ
৪০ বছরের বেশি সার্জারি অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ইএনটি সার্জন
আধুনিক যন্ত্রপাতি ও নিরাপদ চিকিৎসা
রোগীকেন্দ্রিক ও যত্নশীল চিকিৎসা
এফআরসিএস, এফএএসিএস, এফআইসিএস, এফসিপিএস সনদপ্রাপ্ত
হার্ভার্ড, এআইআইএমএস, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
গিলতে সমস্যার মূল্যায়নে এফইইএস সেবায় দক্ষ
গলা ব্যথায় অবহেলা নয়, সচেতন থাকা জরুরি
গলা ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। কিন্তু এর পেছনের কারণ সব সময় সাধারণ নাও হতে পারে। অনেক সময়
এটি
ভাইরাল সংক্রমণের
কারণে হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে কমে যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে টনসিল, এলার্জি, এসিডিটি, কণ্ঠের
চাপ,
বা অন্য গলার
সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
তাই গলা ব্যথা হলে ভয় পাওয়ার দরকার নেই, কিন্তু অবহেলাও করা ঠিক নয়। উপসর্গ বুঝে যত্ন নিন, ঘরোয়া
করণীয় মানুন, এবং
সতর্ক লক্ষণ থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ
নিন ০১৮২৩-০২৫৩০। এতে
সমস্যার কারণ ধরা সহজ
হয়, চিকিৎসাও সঠিকভাবে শুরু করা যায়।
গলা ব্যথা একটি সাধারণ উপসর্গ হলেও এ নিয়ে অনেকেরই দুশ্চিন্তা থাকে। তাই রোগীদের সবচেয়ে বেশি করা
কিছু প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত ও সহজ উত্তর এখানে তুলে ধরা হলো।
গলা ব্যথা কেন হয়?
গলা ব্যথা একটি উপসর্গ, তাই এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো
ভাইরাল সংক্রমণ, তবে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, টনসিলের প্রদাহ, এলার্জি, এসিডিটি,
ধুলা-ধোঁয়া, শুষ্ক আবহাওয়া, বা বেশি কথা বলার কারণেও গলা ব্যথা হতে পারে। কারও
ক্ষেত্রে
এটি সাময়িকভাবে হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে বারবার ফিরে আসে। তাই শুধু ব্যথা কমানো নয়,
কেন
হচ্ছে সেটিও বুঝে দেখা জরুরি।
গলা ব্যথা হলে করণীয় কী?
বেশি পানি পান করা, কুসুম গরম পানিতে গড়গড়া করা, বিশ্রাম নেওয়া, ধোঁয়া-ধুলা এড়িয়ে
চলা,
এবং কণ্ঠকে বিশ্রাম দেওয়া উপকারী হতে পারে। কয়েক দিনেও না কমলে ডাক্তার দেখানো উচিত।
সব গলা ব্যথায় কি অ্যান্টিবায়োটিক লাগে?
না, সব গলা ব্যথায় অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক খেলে
ভবিষ্যতে
ওষুধের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে। তাই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে, প্রয়োজন
হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
গলা ব্যথা কত দিন থাকলে ডাক্তার দেখাতে হবে?
সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে না কমলে বা ৫ থেকে ৭ দিনের বেশি থাকলে ডাক্তার দেখানো ভালো।
সঙ্গে জ্বর, গিলতে কষ্ট, বা কণ্ঠের পরিবর্তন থাকলে আরও দ্রুত দেখাতে হবে।
গিলতে ব্যথা হলে করণীয় কী?
গিলতে ব্যথা হলে নরম ও সহজে গেলা যায় এমন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। বেশি পানি পান
করুন,
কুসুম গরম পানিতে গড়গড়া করুন, এবং গলাকে বিশ্রামে রাখুন। যদি খাবার বা পানি গিলতেই
খুব
কষ্ট হয়, বা ব্যথা দ্রুত বাড়ে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এলার্জির কারণেও কি গলা ব্যথা হয়?
হ্যাঁ, এলার্জির কারণেও গলা ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে নাকের পেছন দিয়ে শ্লেষ্মা নামতে
থাকলে গলায় খুসখুসে ভাব, জ্বালা, গলা পরিষ্কার করতে ইচ্ছে হওয়া, বা হালকা ব্যথা হতে
পারে। অনেক সময় রোগী এটিকে সংক্রমণ ভেবে ভুল করেন। কিন্তু এলার্জিজনিত গলা ব্যথায়
নাকের
সমস্যাও অনেক সময় সঙ্গে থাকে।
এসিডিটির কারণে কি গলা ব্যথা হতে পারে?
হ্যাঁ, এসিডিটির কারণেও গলা ব্যথা হতে পারে। পেটের এসিড গলার দিকে উঠে এলে গলায় জ্বালা,
খুসখুসে ভাব, কণ্ঠ ভারী লাগা, বা ভোরবেলা গলা খারাপ লাগার মতো সমস্যা হয়। সবার
বুকজ্বালা থাকতেই হবে, এমন নয়। তাই দীর্ঘদিন গলা ব্যথা থাকলে এসিড রিফ্লাক্সের
বিষয়টিও
গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার
শিশুদের গলা ব্যথা হলে কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে?
যদি শিশু খেতে না চায়, পানি গিলতে কষ্ট হয়, লালা পড়ে, খুব বেশি জ্বর থাকে, শ্বাস নিতে
কষ্ট হয়, বা খুব দুর্বল দেখায়, তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে। ছোট বাচ্চারা সব সময়
তাদের অস্বস্তি ঠিকমতো বলতে পারে না, তাই তাদের আচরণ, খাওয়ার সমস্যা, এবং শ্বাসের দিকে
বিশেষ নজর রাখা জরুরি।
সতর্কতাঃ
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
গলা ব্যথার চিকিৎসা নিতে?
আজই প্রফেসর ডাঃ কামরুল হাসান তরফদার-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
Struggling with breathing or voice problems? Consult Prof. Dr. Kamrul Hassan Tarafder for bilateral vocal cord paralysis treatment in Dhaka with proper evaluation and care.
Learn about ENT specialist Prof. Dr. Kamrul Hassan Tarafder, known for simple explanations and safe treatment for ear, nose, throat, voice, and head-neck issues.
Get Deafness treatment in Bangladesh from Prof. Dr. Kamrul Hassan Tarafder. We provide permanent hearing loss treatment, infections, and hearing aids for all ages.